নেত্রকোনার মদনে পুলিশের বাসায় ওতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে ১১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী দুই শিক্ষিকা ও তার মা।
এ ঘটনায় (৫ অক্টোবর) রাতে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল(৪৫) বাদী হয়ে মদন পৌরসভার পচিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার ( স্মৃতি)কে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মদন থানায়
মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনাটি ঘটে মদন পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাথে সাবেক পুলিশ সদস্য হাবিলদার গিয়াস উদ্দিন তালুকদার( ৭০) এর বাসায়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, মদন পৌরসভার পচিকা মহিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার ( স্মৃতি)( ৩৬), এবং
পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনী (৩২), ও তার মা আব্দুল হেকিমের স্ত্রী মিলন আক্তার (৬০)।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায় , গত ৪ সেপ্টেম্বর রোজ
রবিবার বিকেল ৫ টার দিকে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন মিয়ার বাসায় মদন পৌরসভার পচিকা মহিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার ( স্মৃতি)তার ছোট বোন পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনী (৩২), ও তার মা, মিলন আক্তার সহ আরও ৫/৬ জন মিলে মামলার বাদি গিয়াস মাহমুদ রুবেল এর শ্বশুরের বাসার দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে । প্রথমে বাসার ভাড়াটিয়া আখাশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হাফছা কে মারধর করে গুরুতর আহত করে তার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণ চেইন নিয়ে নেয়, পরে গিয়াস মাহমুদ রুবেলের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলে যাতে কোন যোগাযোগ না করতে পারে।
পরে বাসার শোকেস আলমারি ভেঙ্গে ১১ ভরি স্বর্ণ ও
৭০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় গিয়াস মাহমুদ রুবেলের শাশুড়ি বাধা প্রদান করিলে তাকে মারধর করে দেয়ালের মধ্যে ফেলে দিয়ে তার হাত ভেঙ্গে এসব কিছু নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মদন থানা অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ সালাহ উদ্দিন করিম জানান, প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেলের করা মামলা দু'জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষিকা সহ তিনজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আজ নেত্রকোনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।