
মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কের ২০১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মো. ওমর হোসেন (৪৮) গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। রিহ্যাব সেন্টার থেকে ছাড়িয়ে তাকে বাড়িতে না নিয়ে রাস্তায় একা ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান স্বপন। নিখোঁজের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ওমর হোসেন আনোয়ার হোসেন ও রাশেদা বেগমের তৃতীয় সন্তান। তিনি অবিবাহিত। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে প্রায় ছয় মাস অবস্থান করেন।
ওমর হোসেনের বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান স্বপনের অভিযোগ, পরবর্তীতে চিকিৎসার কথা বলে তার ছোট ভাইকে মানিকগঞ্জ ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন রিহ্যাব সেন্টারে রাখা হয়। এক রিহ্যাব সেন্টার থেকে অন্য রিহ্যাব সেন্টারে তাকে স্থানান্তর করা হতো। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে ছিলেন।
হাবিবুর রহমান স্বপন জানান, তিনি দীর্ঘদিন মানিকগঞ্জের বাইরে অবস্থান করায় ছোট ভাইয়ের চিকিৎসা ও দেখাশোনার বিষয়টি তার ছোট বোন জমিলা আক্তার দেখভাল করতেন। তার অভিযোগ, পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে ওমর হোসেনের জমির অংশ গোপনে লিখে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পৌর ভূমি অফিস থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে তার ছোট বোন জমিলা আক্তার একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে ওমর হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাকে নিজ বাড়িতে না নিয়ে রাস্তায় একা রেখে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওমর হোসেনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজের পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ২ অক্টোবর পর্যন্ত তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
নিখোঁজ ওমর হোসেনের সন্ধান পেলে কিংবা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তার বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান স্বপন-এর সঙ্গে ০১৭৪০৮২৪৯২৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ওমর হোসেনকে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
আলমগীর কবীর হৃদয় 
























