Dhaka ১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চন্দনাইশ সাতবাড়ীয়া নাজিরহাট ব্যবসায়ী উন্নয়ন সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি মোঃ মাহফুজুর রহমান এবং সাধারণ মোঃ সম্পাদক রবিউল আলম পত্নীতলায় অবৈধ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, ১ লাখ টাকা জরিমানা ফুলছড়িতে জনসম্পৃক্ততায় আলোচনায় চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গাইবান্ধায় জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ধামইরহাটে কৃষক হত্যার ঘটনায় ৭ আসামি গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার দুর্নীতিগ্রস্তদের পদায়ন বন্ধের দাবিতে বান্দরবানে বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন নড়াইলের নড়াগাতী হাসান শেখ হত্যা: কলাবাড়িয়ায় লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ধামইরহাটে ছাগলে করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছুরিকা ঘাতে কৃষক নিহত। রিহ্যাব থেকে ছাড়ার পর রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, ৬ দিন ধরে নিখোঁজ ওমর হোসেন নওগাঁ ‘আইন কলেজ নওগাঁতে এল,এল,বি ১ম বর্ষ কোর্সে ভর্তী চলছে।

মোহনপুরের ঐতিহ্যবাহী কেশরহাট ধানের হাটে অচল ‘ঢলন প্রথা’: ৪১-৪২ কেজিতে মণ! কৃষকদের মাথায় হাত

  • মোঃ নাসিরউদ্দিন
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬০ সময় দেখুন

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য কেন্দ্র কেশরহাট ধানের হাটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অমানবিক ‘ঢলন প্রথা’র কবле পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। সরকারি নিয়ম ও স্ট্যান্ডার্ড মাপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাজারে ৪০ কেজিতে ১ মণ হওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে জোরপূর্বক ৪১ থেকে ৪২ কেজিতে ১ মণ ধান আদায় করা হচ্ছে। এতে রীতিমতো কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে এবং স্থানীয় কৃষক সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
কী এই ঢলন প্রথা এবং এর বাস্তব চিত্র?
সাধারণত প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ১ মণ সমান ৪০ কেজি। অথচ কেশরহাট হাটের এক শ্রেণির প্রভাবশালী চালকল মালিক (মরিয়া মালিক), ধান ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মণে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ কেজি ধান বেশি কেটে নিচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা সারা বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়ে বাজারে তোলার পর এই এক্সট্রা বা অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হন।
প্রতিবাদ করলে নানা টালবাহানা, ধানের দাম কম দেওয়া কিংবা বাজার থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ফলে প্রতি মণ ধানে কৃষকদের পকেট থেকে ১ থেকে ২ কেজি সমপরিমাণ ধানের আর্থিক মূল্য জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা এক ধরনের নীরব চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
কৃষকদের মাথায় হাত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
চলমান উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ মিটিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ধানের যে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার কথা, এই অতিরিক্ত ঢলন প্রথার কারণে তারা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রতি মণে অতিরিক্ত ২ কেজি ধান কাটা যাওয়ার ফলে ট্রাকপ্রতি বা সামগ্রিক উৎপাদনে কৃষকদের অনেক বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এক দিকে প্রকৃতির মার ও ফসলের নানা রোগবালাই, অন্যদিকে বাজারে এই অসাধু ওজন কারচুপির ফলে ঋণগ্রস্ত কৃষকরা আরও বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি: উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ
ঐতিহ্যবাহী কেশরহাট ধানের হাটে এই অনাচার ও শোষণের হাত থেকে সাধারণ কৃষকদের রক্ষা করতে অবিলম্বে মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
বাজার মনিটরিং সেল গঠন: হাটের দিনগুলোতে প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা মনিটরিং পরিচালনা করা।
সঠিক ওজনে বিক্রির বাধ্যবাধকতা: ডিজিটাল স্কেল বা নির্দিষ্ট ওজনের মাপ নিশ্চিত করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
সিন্ডিকেট ভাঙা: যে সিন্ডিকেট বা চক্র এই অনৈতিক ঢলন প্রথা টিকিয়ে রেখেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
ভুক্তভোগী কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে কেশরহাট হাটে সরকারি ও ন্যায্য ওজনে ধান কেনাবেচা নিশ্চিত করবে।
এই নিউজটিতে কি স্থানীয় কোনো কৃষक বা বাজার কমিটির প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া যুক্ত করার প্রয়োজন আছে?

আরও পড়ুনঃ  জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ, দ্রুত সমাধানের দাবি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চন্দনাইশ সাতবাড়ীয়া নাজিরহাট ব্যবসায়ী উন্নয়ন সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি মোঃ মাহফুজুর রহমান এবং সাধারণ মোঃ সম্পাদক রবিউল আলম

মোহনপুরের ঐতিহ্যবাহী কেশরহাট ধানের হাটে অচল ‘ঢলন প্রথা’: ৪১-৪২ কেজিতে মণ! কৃষকদের মাথায় হাত

আপডেটের সময়: ০৯:৩৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য কেন্দ্র কেশরহাট ধানের হাটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অমানবিক ‘ঢলন প্রথা’র কবле পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। সরকারি নিয়ম ও স্ট্যান্ডার্ড মাপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাজারে ৪০ কেজিতে ১ মণ হওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে জোরপূর্বক ৪১ থেকে ৪২ কেজিতে ১ মণ ধান আদায় করা হচ্ছে। এতে রীতিমতো কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে এবং স্থানীয় কৃষক সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
কী এই ঢলন প্রথা এবং এর বাস্তব চিত্র?
সাধারণত প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ১ মণ সমান ৪০ কেজি। অথচ কেশরহাট হাটের এক শ্রেণির প্রভাবশালী চালকল মালিক (মরিয়া মালিক), ধান ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মণে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ কেজি ধান বেশি কেটে নিচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা সারা বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়ে বাজারে তোলার পর এই এক্সট্রা বা অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হন।
প্রতিবাদ করলে নানা টালবাহানা, ধানের দাম কম দেওয়া কিংবা বাজার থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ফলে প্রতি মণ ধানে কৃষকদের পকেট থেকে ১ থেকে ২ কেজি সমপরিমাণ ধানের আর্থিক মূল্য জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা এক ধরনের নীরব চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
কৃষকদের মাথায় হাত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
চলমান উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ মিটিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ধানের যে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার কথা, এই অতিরিক্ত ঢলন প্রথার কারণে তারা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রতি মণে অতিরিক্ত ২ কেজি ধান কাটা যাওয়ার ফলে ট্রাকপ্রতি বা সামগ্রিক উৎপাদনে কৃষকদের অনেক বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এক দিকে প্রকৃতির মার ও ফসলের নানা রোগবালাই, অন্যদিকে বাজারে এই অসাধু ওজন কারচুপির ফলে ঋণগ্রস্ত কৃষকরা আরও বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
সচেতন মহল ও কৃষকদের দাবি: উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ
ঐতিহ্যবাহী কেশরহাট ধানের হাটে এই অনাচার ও শোষণের হাত থেকে সাধারণ কৃষকদের রক্ষা করতে অবিলম্বে মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
বাজার মনিটরিং সেল গঠন: হাটের দিনগুলোতে প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা মনিটরিং পরিচালনা করা।
সঠিক ওজনে বিক্রির বাধ্যবাধকতা: ডিজিটাল স্কেল বা নির্দিষ্ট ওজনের মাপ নিশ্চিত করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
সিন্ডিকেট ভাঙা: যে সিন্ডিকেট বা চক্র এই অনৈতিক ঢলন প্রথা টিকিয়ে রেখেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
ভুক্তভোগী কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে কেশরহাট হাটে সরকারি ও ন্যায্য ওজনে ধান কেনাবেচা নিশ্চিত করবে।
এই নিউজটিতে কি স্থানীয় কোনো কৃষक বা বাজার কমিটির প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া যুক্ত করার প্রয়োজন আছে?

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে কৃষক হত্যার ঘটনায় ৭ আসামি গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার