
মুজিবনগরে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০২৬ পালিত
‘শিশুর বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্ব জয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরের মুজিবনগরে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশের বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
৩০ সেপ্টেম্বর গুড নেইবারস বাংলাদেশ (GNB), মেহেরপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিশু সুরক্ষা কর্মী, কন্যাশিশু ও স্থানীয় অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুড নেইবারস বাংলাদেশ, মেহেরপুরের ব্যবস্থাপক বিপুল রেমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আছিয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নয়ন তারা নিশাত, মুজিবনগর, মেহেরপুরের শিশু সুরক্ষা অফিসার মো. মতিউর রহমান, গুড নেইবারস বাংলাদেশ, মেহেরপুরের প্রোগ্রাম অফিসার অসীম রেমা, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্ন (BYFC), মুজিবনগরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জন অমৃত মন্ডল, বল্লভপুর মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুক হরেন্দ্র বিশ্বাস এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আল্পনা এলিনা সরকার।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর শৈশব ও শিক্ষা নিশ্চিত করা তার ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বাল্যবিবাহ একটি শিশুর শিক্ষা, ব্যক্তিগত বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কন্যাশিশুকে অল্প বয়সে বিয়ের পরিবর্তে শিক্ষা গ্রহণ, নিজের প্রতিভা বিকাশ এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো কন্যাশিশুর বাল্যবিবাহের ঝুঁকি দেখা দিলে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন কবিতা আবৃত্তি, গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি ও প্রতিভা তুলে ধরে। তাদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে এবং উপস্থিত সবাই তা উপভোগ করেন।
কন্যাশিশুদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেক কন্যাশিশুকে দুটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও শিশুদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কন্যাশিশুদের অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী কন্যাশিশুরা ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজেদের দক্ষতা বিকাশ এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করে।
আলোচনা, কবিতা, গান ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠান শেষ হয়।
Liton Mondol 

















